পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গৃদকালিন্দিয়া এলাকার বাপের বাড়িতে তানজিনা আক্তার রিতু (২০) নামে এক গৃহবধূকে খুন করেই ক্ষান্ত হয়নি ঘাতক স্বামী বিদেশ ফেরত আল মামুন মোহন (৩০)। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার আগে মোহন তার শ্বাশুড়ীকেও এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করেছে।
বুধবার ( ১৩ মে) সন্ধ্যায় উপজেলা গৃদকালিন্দিয়া এলাকার খাঁন বাড়িতে এই ধরনের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর পূর্বে গৃদকালিন্দিয়া এলাকার প্রবাসী সেলিম খাঁনের মেয়ে তানজিনা আক্তার রিতুর (২০) সাথে পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার দেবীপুর গ্রামের মোঃ মমতাজ মাষ্টারের ছেলে আলমামুন মোহনের সাথে পারিবারিক ভাবেই বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই স্বামী- স্ত্রীর মনোমালিন্য দেখা দেয়। বুধবার সন্ধ্যায় তাদের দুজনের সাথে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে আল মামুন মোহন ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করে।
এক পর্যায়ে তার ছুরির আঘাতে রিতুর বাম চোখ উপড়ে ফেলে। তার চিৎকার শুনে পার্শ্ববর্তীরা এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় রিতুকে উদ্ধার করে ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার রিতুকে মৃত ঘোষণা করে।
অপরদিকে একই সময়ে রিতুর চিৎকার শুনে তার মা এগিয়ে আসলে শাশুড়িকেও এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। পরে গুরুতর আহত রিতুর মা পারভিন আক্তারকে মুমুর্ষ অবস্থায় প্রথমে ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পর তার অবস্থার অবনতি দেখে তাকে দ্রুত চাঁদপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
ঘটনার পর ঘাতক স্বামী মোহন পালিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ফরিদগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রকিবের নেতৃত্বে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক মোহনকে গৃদকালিন্দিয়া বাজার থেকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রকিব বলেন, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে নিজ স্ত্রীকে হত্যার দ্বায়ে ঘাতক আল মামুন মোহনকে আটক করা হয়েছে। আটক মোহনের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরর প্রস্তুতি চলছে।
ইত্তেফাক/এসআই

